জাপানে ২০২৫ সালে মুদ্রিত বই ও ম্যাগাজিনের বিক্রি পাঁচ দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো ট্রিলিয়ন ইয়েনের নিচে নেমে এসেছে। আগের বছরের তুলনায় এ সময় বিক্রি কমেছে ৪ দশমিক ১ শতাংশ, ৯৬ হাজার ৪৭০ কোটি ইয়েন। খবর কিয়োদো।
১৯৯৬ সালে জাপানে মুদ্রিত বই ও ম্যাগাজিনের বিক্রি শীর্ষ পর্যায়ে ওঠে। ২ দশমিক ৬৬ ট্রিলিয়ন ইয়েন বিক্রি হয় ওই বছর। এর পর থেকে মুদ্রিত প্রকাশনার বিক্রি ধারাবাহিকভাবে নিম্নমুখী। ডিজিটাল মাধ্যম যোগ করলেও ২০২৫ সালে মোট বই ও ম্যাগাজিন বিক্রি টানা চতুর্থ বছরের মতো কমেছে। রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব পাবলিকেশনসের তথ্যানুযায়ী, দুই মাধ্যম মিলিয়ে বিক্রি ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে হয়েছে ১ দশমিক ৫৫ ট্রিলিয়ন ইয়েন।
২০২৫ সালে মুদ্রিত ম্যাগাজিন বিক্রি ১০ শতাংশ কমে ৩৭ হাজার ৮০ কোটি ইয়েনে নেমেছে। এর মধ্যে সাপ্তাহিক প্রকাশনাগুলোর বিক্রি রেকর্ড ১৭ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ৫ হাজার ১৩০ কোটি ইয়েনে দাঁড়িয়েছে। মাসিক ম্যাগাজিনের বিক্রি কমেছে ৮ দশমিক ৬ শতাংশ, ৩১ হাজার ৯৫০ কোটি ডলার ইয়েন।
ম্যাগাজিন শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত মুদ্রিত ‘মাঙ্গা’ সিরিজের বিক্রি প্রায় ১৫ শতাংশ কমেছে। ‘জুজুৎসু কাইসেন’-এর মতো জনপ্রিয় সিরিজের সমাপ্তি এবং সামগ্রিকভাবে ডিজিটাল কমিকসের দিকে ঝোঁক বৃদ্ধিই বিক্রির পতনের কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে মুদ্রিত বইয়ের বিক্রি সামান্য বেড়েছে। তিন বছরের মন্দার পর ২০ কোটি ইয়েন বেড়ে ৫৯ হাজার ৩৯০ কোটি ইয়েনে পৌঁছেছে। কাবুকিভিত্তিক ব্লকবাস্টার চলচ্চিত্র ‘কোকুহো’র মূল উপন্যাসসহ একাধিক বেস্টসেলার বইয়ের জনপ্রিয়তা এক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে।
জাপানের সংকুচিত বাজারের চাপে অনেক বইয়ের দোকান বন্ধ হয়ে গেছে। তবে বই বিক্রির সঙ্গে অন্যান্য সেবা যুক্ত করে কিছু প্রতিষ্ঠান এ চাহিদা পূরণে এগিয়ে এসেছে।
গত এপ্রিলে পশ্চিম টোকিওর হিনো শহরে বইয়ের দোকান চালু করেন ইউ ইওয়াশিতা। তিনি বলেন, ‘বইয়ের দোকানের টিকে থাকতে হলে মুদ্রিত প্রকাশনার স্থায়ী চাহিদার ওপর নির্ভর করতেই হবে। শুধু পুঁজিবাদের যুক্তির ওপর নির্ভর করলে বইয়ের দোকান টিকে থাকবে না।’
‘বুকস্টোর অ্যান্ড কিচেন ইয়োরিমাশিদো’ নামের ইওয়াশিতার দোকানটি ক্যাফে ও অনুষ্ঠানস্থল হিসেবেও স্থানীয়দের কাছে সাড়া পেয়েছে। এছাড়া জাপানের তৃণমূল পর্যায়েও বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে শেয়ার্ড বুকস্টোরের জনপ্রিয়তা, যেখানে দোকানের বুকশেলফে জায়গা ভাড়া নিয়ে ব্যক্তিগত সংগ্রহের বই বিক্রি করা যায়।
স্বাধীন বইয়ের দোকানের উদ্যোগ ও ‘জিন’ নামের ছোট কাগজের জনপ্রিয়তার কথা উল্লেখ করে সোফিয়া ইউনিভার্সিটির মিডিয়া স্টাডিজের অধ্যাপক কিয়োকো শিবানো বলেন, ‘এমন নয় যে মানুষ আর বই পড়ছে না। আমি মনে করি না, সাম্প্রতিক গবেষণাটিকে সরাসরি প্রকাশনা শিল্পের পতনের সমার্থক বলা যায়।’